বিশ্বকাপ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রাপ্তি কেবল মুশফিকের সেঞ্চুরি


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ভীষণ জরুরি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু পারেনি বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩৮২ রানের জবাবে ৪৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে চতুর্থবারের মতো হার সঙ্গী হয়েছে মাশরাফিদের। বৃহস্পতিবারের হারে প্রাপ্তি বলতে কেবল মুশফিকের সেঞ্চুরি।

বড় লক্ষ্যে ব্যাটিং নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়ে শুরু বাংলাদেশের। দুঃখজনক রান আউটে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। তাতেই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের। সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে তামিম দ্বিতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়েন। ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থাকা সাকিব ৪১ রানে আউট হয়ে ফিরে গেলে চাপ বড়ে বাংলাদেশের। মার্কাস স্টোইনিসের স্লোয়ার ডেলিভারিতে মিডঅনে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। সাকিবের আউটের পর ফিরে যান তামিমও। তার খোলসবন্দী ইনিংসটি বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। ৮৩.৭৮ স্ট্রাইকরেটে ৭৪ বলে ৬২ রান করেছেন বটে তামিম। কিন্তু সেখানে তার ডট বলের সংখ্যা চমকে যাওয়ার মতো। ৭৪টি বল খেলা তামিম ডট বলই দিয়েছেন ৩৬ বলে! ৬টি বাউন্ডারিতে ২৪ রান করে, বাকি ৩৮ রান করতে খেলেছেন ৬৮ বল! একজন ওপেনারের এমন স্ট্রাইকরেট সত্যিই চমকে যাওয়ার মতো।

তামিমের ফিরে যাওয়ার পর লিটনকে সঙ্গে নিয়ে মুশফিক ৩১ রান করেন। ১৭৫ রানে ৪ উইকেট পতনের পর ভালো কিছুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ জুটিতে। ১২৭ রানের জুটিতে ব্যবধান কমে এসেছিল অনেক। ৫০ বলে ৬৯ করা মাহমুদউল্লাহকে বিদায় দিয়েই সব কিছুর ইতি টেনে দেন কোল্টার নাইল। আগ্রাসী মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছয়। তার বিদায়ের পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরেছেন আজ সুযোগ পাওয়া সাব্বির। মিরাজ কিছুক্ষণ থেকে ৬রান করে ফিরেছেন স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়ে। অপরপ্রান্তে মুশফিক শুধু হারের ব্যবধান কমাতে লড়াই করে গেছেন। ৯৫ বলে তুলে নেন বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। আর ক্যারিয়ারের সপ্তম। মুশফিকের এই সেঞ্চুরিই হয়ে থাকলো ম্যাচের সান্ত্বনা। অপরাজিত থাকেন ১০২ রানে। তাতে ছিল ৯টি চার ও ১টি ছয়। মাশরাফি ৬ রানে স্টোইনিসের শেষ বলে উড়িয়ে মেরে বিদায় নিলে ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহে থামে বাংলাদেশ। তারা করে ৮ উইকেটে ৩৩৩ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক, নাথান কোল্টার নাইল ও মার্কাস স্টোইনিস। একটি নেন অ্যাডাম জাম্পা।

এর আগে টস জিতে রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৫ উইকেটে করে ৩৮১ রান। অস্ট্রেলিয়ার এই বিশাল সংগ্রহে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ডেভিড ওয়ার্নারের। উদ্বোধনী জুটিতে ফিঞ্চের (৫৩) সঙ্গে ১২১ ও দ্বিতীয় উইকেটে খাজার (৮৯) সঙ্গে ১৯২ রানের জুটি গড়ার পথে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত খেলেন ১৬৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ম্যাচসেরাও হন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার নেওয়া ৫ উইকেটের তিনটিই সৌম্যর শিকার। ৮ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে তিনি ফিরিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তিন সেরা ব্যাটসম্যান- ফিঞ্চ, ওয়ার্নার ও খাজাকে। মোস্তাফিজুর রহমান ৬৯ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট।

এই হারের পর ৬ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বসলো অজিরা। বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ২ জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রইলো পাঁচে। ৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নিউজিল্যান্ড। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ইংল্যান্ড।

অর্ক হাসান, নটিংহাম থেকে



তাসকিনের ওপর নাখোশ সুজন

তাসকিনের ওপর নাখোশ সুজন

তাসকিনের ওপর নাখোশ সুজন


কোহলির শতকে বেঙ্গালুরুর জয়

কোহলির সেঞ্চুরিতে ম্লান রাসেল ঝড়

মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেনি আন্দ্রে রাসেল


সরে দাঁড়ালেন অ্যালেক্স হেইলস

সরে দাঁড়ালেন অ্যালেক্স হেইলস

সরে দাঁড়ালেন অ্যালেক্স হেইলস